Sale!

চাপাই-কোপাই মরিচ বীজের ইন্টেক প্যাকেট [ প্রতি প্যাকেটে বীজের পরিমাণ ১৫০ থেকে ২০০ পিস ]

Original price was: ৳ 600.Current price is: ৳ 299.

🌶️ এক নজরে চাপাই-কোপাই

  • জাত:  ইন্দোনেশিয়ান জাত হিসেবে উল্লেখিত
  • গাছের উচ্চতা: প্রায় ২ ফুট পর্যন্ত
  • মরিচের দৈর্ঘ্য: প্রায় ১২-১৪ ইঞ্চি
  • ফলের রং: কাঁচা অবস্থায় সবুজ, পাকার পর লাল
  • ফল ধরার ধরন: লম্বা, সরু ও ঝুলন্ত
  • প্রতিবেদিত ফলন: প্রতি গাছে প্রায় ৩০-৫০টি মরিচ
  • চাষের সম্ভাবনা: জমি, টব, ড্রাম ও ছাদবাগান
  • ব্যবহার: ঝাল খাবার ও বিশেষত কিছু চায়নিজ খাবারে ব্যবহারের সম্ভাবনা
  • বাংলাদেশে অবস্থা: নতুন জাত হিসেবে পরীক্ষামূলকভাবে চাষের খবর পাওয়া গেছে
  • বাণিজ্যিক সম্ভাবনা: ভালো

আমাদের কাছ থেকে কেন পন্য কিনবেন??

  • Check Mark পণ্য হাতে পেয়ে মূল্য পরিশোধের সুবিধা।
  • Check Mark পছন্দ না হলে ফেরতের সুবিধা ।
  • Check Mark দ্রুত ও সঠিক সময়ে পণ্য হোম ডেলিভারি ।
Category:

Description

🌶️ চাপাই-কোপাই মরিচ চাষ পদ্ধতি

১. উপযুক্ত সময়

বাংলাদেশে মরিচের মৌসুম অঞ্চল ও জাতভেদে পরিবর্তিত হয়। সরকারি কৃষি তথ্য অনুযায়ী রবি মৌসুমে সাধারণত সেপ্টেম্বর- নভেম্বর এবং খরিফ মৌসুমে ফেব্রুয়ারি-মার্চ সময়ে চারা তৈরির/রোপণের সুযোগ থাকে।

তবে চাপাই-কোপাই যেহেতু নতুন বিদেশি জাত, প্রথমবার সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের তুলনামূলক অনুকূল সময়ে ছোট পরিসরে পরীক্ষামূলক চাষ শুরু করা ভালো।


২. মাটি নির্বাচন

চাপাই-কোপাইয়ের মতো মরিচের জন্য পানি জমে না এমন উর্বর, ঝুরঝুরে ও জৈব পদার্থসমৃদ্ধ মাটি নির্বাচন করুন।

মাটির pH প্রায় ৬.৫-৭.০ হলে মরিচের জন্য ভালো বলে কৃষি তথ্য সার্ভিস উল্লেখ করেছে।

জমিতে পানি জমে থাকলে শিকড় পচা ও বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ে। তাই:

  • উঁচু জমি নির্বাচন করুন
  • ভালো নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখুন
  • উঁচু বেড তৈরি করুন
  • অতিরিক্ত কাদাযুক্ত মাটি এড়িয়ে চলুন

🌱 ৩. বীজ থেকে চারা তৈরি

চাপাই-কোপাইয়ের ক্ষেত্রে সরাসরি জমিতে বীজ বপনের চেয়ে আগে চারা তৈরি করে রোপণ করা বেশি সুবিধাজনক।

বীজতলার মাটি

একটি ঝুরঝুরে মিডিয়া তৈরি করুন:

৩ ভাগ মাটি + ১ ভাগ ভালোভাবে পচানো কম্পোস্ট/ভার্মিকম্পোস্ট

মাটিতে পানি যেন আটকে না থাকে।

বীজ খুব গভীরে বপন করবেন না। সরকারি মরিচ চাষ নির্দেশনায় প্রায় ১ সেমি গভীরে বীজ বপনের কথা বলা হয়েছে।

চারা পরিচর্যা

  • সকাল বা বিকেলে হালকা পানি দিন
  • অতিরিক্ত পানি দেবেন না
  • বৃষ্টির সময় চারাকে অতিরিক্ত পানি থেকে রক্ষা করুন
  • শুরুতেই পোকামাকড়ের আক্রমণ পর্যবেক্ষণ করুন
  • চারা অতিরিক্ত ঘন হলে পাতলা করে দিন

সুস্থ মরিচের চারা সাধারণত ৩০-৪০ দিনের মধ্যে মূল জমিতে রোপণের উপযোগী হয়। সরকারি নির্দেশনায় ৩০-৩৫ দিন বয়সী ৪-৫ পাতার শক্ত চারা রোপণের কথা বলা হয়েছে।


🌿 ৪. জমি প্রস্তুত

জমি ভালোভাবে চাষ করে আগাছা ও মাটির ঢেলা সরিয়ে ফেলুন।

প্রচুর পচা গোবর/কম্পোস্ট মাটির সঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে দিন।

এরপর প্রায় ১০-১৫ সেমি উঁচু বেড তৈরি করা যেতে পারে। দুই বেডের মাঝখানে পানি নিষ্কাশনের নালা রাখুন। বাংলাদেশে মরিচের সরকারি উৎপাদন নির্দেশনাতেও উঁচু বেড ও নিষ্কাশন নালার ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে।

মালচ

সম্ভব হলে কালো-সিলভার প্লাস্টিক মালচ ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে:

  • আগাছা কমে
  • মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখা যায়
  • ফল মাটিতে লেগে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমে
  • কিছু মাটিবাহিত রোগের চাপ কমাতে সহায়তা করতে পারে

🌱 ৫. চারা রোপণের দূরত্ব

চাপাই-কোপাইয়ের শ্রীপুরের গাছগুলো প্রায় ২ ফুট উচ্চতা পর্যন্ত দেখা গেছে। তাই খুব ঘন করে চারা লাগানো উচিত নয়।

প্রাথমিকভাবে আমি সারি থেকে সারি ৫০-৬০ সেমি এবং গাছ থেকে গাছ ৫০-৬০ সেমি দূরত্ব দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করার পরামর্শ দেব।

বাংলাদেশের সরকারি মরিচ চাষ নির্দেশনাতেও প্রায় ৫০ × ৫০ সেমি থেকে ৬০ × ৬০ সেমি দূরত্বে চারা রোপণের নির্দেশনা পাওয়া যায়।

চাপাই-কোপাইয়ের গাছ যদি আপনার এলাকায় বেশি ঝোপালো হয়, তাহলে ৬০ × ৬০ সেমি রাখা আরও সুবিধাজনক হতে পারে।


🪴 ৬. টব/ড্রামে চাপাই-কোপাই

আপনার ছাদবাগানের অনুসারীদের জন্য এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ।

একটি গাছের জন্য কমপক্ষে:

১২-১৬ ইঞ্চি ব্যাসের এবং ১২-১৬ ইঞ্চি গভীর টব দিয়ে শুরু করা যায়। তবে যেহেতু এই জাতের ফল লম্বা এবং ফলন বেশি হতে পারে, ১৮-২০ ইঞ্চি বা প্রায় ২০-৩০ লিটারের ভালো ড্রাম/কন্টেইনার ব্যবহার করলে শিকড় ও গাছের বৃদ্ধির জন্য বেশি জায়গা পাওয়া যাবে।

টবের মিশ্রণ

একটি ব্যবহারযোগ্য মিশ্রণ হতে পারে:

  • ৪০% দোআঁশ মাটি
  • ৩০% পচা কম্পোস্ট/গোবর
  • ২০% কোকোপিট
  • ১০% বালি/ধানের তুষ

এর সঙ্গে অল্প পরিমাণ নিমখৈল ও প্রয়োজন অনুযায়ী জৈব সার ব্যবহার করা যায়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ড্রেনেজ। টবের নিচে পর্যাপ্ত ছিদ্র অবশ্যই থাকতে হবে।


💧 ৭. পানি ব্যবস্থাপনা

মরিচ গাছের গোড়ায় সবসময় পানি জমিয়ে রাখা যাবে না।

রোপণের পর প্রথম কয়েকদিন মাটি শুকিয়ে গেলে হালকা পানি দিন। পরে মাটির উপরের স্তর শুকিয়ে এলে সেচ দিন।

বিশেষ করে:

ফুল আসা → ফল ধরা → ফল বড় হওয়ার সময়

মাটিতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা থাকা দরকার।

কিন্তু অতিরিক্ত পানি দিলে শিকড় দুর্বল হতে পারে এবং রোগের ঝুঁকি বাড়ে।


🌿 ৮. সার ব্যবস্থাপনা

এখানে একটু সতর্ক হওয়া জরুরি। চাপাই-কোপাইয়ের জন্য আলাদা পরীক্ষিত সার চার্ট না থাকায় শুধু এই জাতের নামে নির্দিষ্ট ইউরিয়া/NPK ডোজ ঘোষণা করা ঠিক হবে না।

বাংলাদেশের মরিচ চাষে সাধারণভাবে জৈবসার এবং NPK পর্যায়ক্রমে প্রয়োগ করা হয়। সরকারি নির্দেশনায়ও ইউরিয়া ও এমওপি কয়েক কিস্তিতে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

ছাদবাগানের জন্য সহজ ব্যবস্থাপনা

রোপণের সময়:
পচা কম্পোস্ট + প্রয়োজনীয় ফসফরাস ও পটাশভিত্তিক সার।

রোপণের ১৫-২০ দিন পর:
হালকা নাইট্রোজেন + জৈব তরল সার।

ফুল আসার আগে:
NPK-এর পাশাপাশি পটাশের দিকে গুরুত্ব দিন।

ফল ধরার সময়:
অতিরিক্ত ইউরিয়া না দিয়ে পটাশ, ক্যালসিয়াম ও প্রয়োজনীয় মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের ভারসাম্য বজায় রাখুন।

কারণ অতিরিক্ত নাইট্রোজেন দিলে গাছ বেশি পাতা তৈরি করলেও ফুল ও ফলন কাঙ্ক্ষিত নাও হতে পারে।


🪵 ৯. খুঁটি বা সাপোর্ট দিন

এটি চাপাই-কোপাইয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

আপনার দেওয়া শ্রীপুরের ছবিতে দেখা যাচ্ছে, গাছে অনেক লম্বা মরিচ ধরায় ডাল নুয়ে পড়ছে। প্রতিবেদনে গাছ ভেঙে পড়া ঠেকাতে খুঁটি ব্যবহারের কথাও বলা হয়েছে।

তাই চারা ২৫-৩০ সেমি হওয়ার পর থেকেই বাঁশের ছোট খুঁটি বা শক্ত সাপোর্ট দেওয়া ভালো।

ফলন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নরম দড়ি দিয়ে আলতোভাবে গাছকে সাপোর্টের সঙ্গে বেঁধে দিন।


✂️ ১০. গাছের পরিচর্যা

গাছের নিচের অংশে:

  • শুকনো পাতা
  • আক্রান্ত পাতা
  • মাটিতে লেগে থাকা ডাল
  • অতিরিক্ত দুর্বল শাখা

প্রয়োজনে সরিয়ে দিতে পারেন।

তবে অতিরিক্ত ডালপালা কেটে গাছকে দুর্বল করবেন না।

আগাছা নিয়মিত পরিষ্কার করুন।


🐛 ১১. রোগ ও পোকামাকড়

মরিচে সাধারণত থ্রিপস, জাবপোকা, সাদা মাছি, মাইট, ফল ছিদ্রকারী পোকা ইত্যাদির সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়া ভাইরাসজনিত রোগ, অ্যানথ্রাকনোজ ও বিভিন্ন ছত্রাকজনিত রোগও গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে সাদা মাছি ও জাবপোকা নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এগুলো ভাইরাস ছড়াতে পারে।

নিরাপদ ব্যবস্থাপনা

প্রথমে:

  • হলুদ স্টিকি ট্র্যাপ
  • আক্রান্ত পাতা অপসারণ
  • আগাছা পরিষ্কার
  • পর্যাপ্ত আলো-বাতাস
  • অতিরিক্ত সেচ বন্ধ
  • আক্রান্ত গাছ দ্রুত আলাদা করা

এসব ব্যবস্থা নিন।

রাসায়নিক কীটনাশক প্রয়োজন হলে বাংলাদেশে নিবন্ধিত পণ্য এবং লেবেলে দেওয়া ফসলভিত্তিক ডোজ ও অপেক্ষাকাল মেনে ব্যবহার করতে হবে। কৃষি তথ্য সার্ভিসও মরিচের জন্য সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।


🌶️ ১২. ফল সংগ্রহ

চাপাই-কোপাই মরিচের ব্যবহার অনুযায়ী দুইভাবে সংগ্রহ করা যায়।

কাঁচা মরিচ হিসেবে

ফল পূর্ণ আকারে পৌঁছে সবুজ অবস্থায় সংগ্রহ করা যায়।

পাকা মরিচ হিসেবে

ফল সবুজ থেকে লাল হতে শুরু করলে এবং বাজারের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত পরিপক্ব হলে সংগ্রহ করুন।

ফল হাত দিয়ে টেনে ছিঁড়ে না নিয়ে কাঁচি দিয়ে ডাঁটাসহ কাটা ভালো। এতে গাছের ডাল ও নতুন ফুল/ফলের ক্ষতি কম হয়।


🌶️ চাপাই-কোপাইয়ের জন্য একটি সম্ভাব্য চাষ ক্যালেন্ডার

ধাপ আনুমানিক সময়
বীজ বপন দিন ০
চারা গজানো ৫-১০ দিন
চারা পরিচর্যা ১-৪ সপ্তাহ
মূল জমিতে রোপণ ৩০-৪০ দিন
সাপোর্ট দেওয়া ২৫-৩০ দিন বয়স থেকে
ফুল আসা জাত ও পরিবেশভেদে
ফল ধরা ফুলের পর
প্রথম ফল সংগ্রহ জাতভেদে, পরীক্ষামূলকভাবে নির্ধারণযোগ্য
পরবর্তী সংগ্রহ ফলের বৃদ্ধি অনুযায়ী নিয়মিত

এখানে নির্দিষ্ট “৫০ দিনেই ফল” বা “অমুক দিনে প্রথম ফল” বলা ঠিক হবে না, কারণ শ্রীপুরের এই নির্দিষ্ট চাপাই-কোপাই জাতটির বাংলাদেশে পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষিত উৎপাদনকাল এখনো নিশ্চিত নয়।

⭐ আমার মতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৫টি বিষয়

১. ভালো মানের আসল বীজ
২. পানি নিষ্কাশনযুক্ত উর্বর মাটি
৩. পর্যাপ্ত রোদ
৪. ফলের ভার সামলাতে শক্ত সাপোর্ট
৫. ফুল ও ফলের সময়ে সুষম পুষ্টি এবং নিয়মিত পোকা-মাকড় পর্যবেক্ষণ

শ্রীপুরের রিপোর্টে যে ফলন ও গাছের বৈশিষ্ট্য দেখা গেছে, সেটি আশাব্যঞ্জক, কিন্তু সেটিকে সর্বজনীন ফলন হিসেবে না ধরে প্রথমে ছোট জায়গায় পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করে স্থানীয় পরিবেশে ফলন, রোগ সহনশীলতা ও বাজার চাহিদা যাচাই করাই সবচেয়ে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি।

Reviews

There are no reviews yet.

Be the first to review “চাপাই-কোপাই মরিচ বীজের ইন্টেক প্যাকেট [ প্রতি প্যাকেটে বীজের পরিমাণ ১৫০ থেকে ২০০ পিস ]”

Your email address will not be published. Required fields are marked *